এক খণ্ডেই ভাগবতের সম্পূর্ণ অনুবাদ ‘শ্রীমদ্ভাগবত কথামৃত’। নতুন আঙ্গিকে, চলিত গদ্যে, গল্পকথনে মহর্ষি বেদব্যাসের শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণের এই অনুবাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়েছে প্রবাদপ্রতিম টীকাকার শ্রীধর স্বামী এবং বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর ওপর। সবরকম জটিলতা এড়িয়ে সহজ-সরল বাংলায়, প্রয়োজনে একাধিক অধ্যায়কে যুক্ত করে কাহিনি- সূত্রের সাবলীলতা রক্ষা এই অনুবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভাগবত মহাপুরাণে আছে সৃষ্টি বর্ণন থেকে বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতারের কথা। এই গ্রন্থের দশম স্কন্ধের শ্রীকৃষ্ণলীলাই সমগ্র ভারতের সঙ্গে বাংলার মানুষকে বিশেষভাবে আলোড়িত করে। ভাগবতের এই সৃজনশৈলীকেই যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে বর্তমান অনুবাদেও।
ভাগবতের বেশিরভাগ অনুবাদই পয়ারে রচিত। গদ্য অনুবাদগুলিও সাধু ভাষায় লেখা। রচনাশৈলী ও খুবই জটিল। অপ্রচলিত শব্দে ভারাক্রান্ত সেইসব অনুবাদ প্রায়শই সাধারণ পাঠকের বোধের বাইরে। তাছাড়া পুনরুক্তি ও ভক্তির আতিশয্যে ও বাগাড়ম্বরে তা রসাস্বাদনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই সেসব পরিহার করে কিছু কিছু বিষয়ে সংক্ষেপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সব ধরনের পাঠকের কথা ভেবেই ‘শ্রীমদ্ভাগবত কথামৃত’-এর এই রূপ- পরিকল্পনা।
লেখক নন্দলাল ভট্টাচার্য-এর জন্ম ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ। পড়াশোনা তারকেশ্বর ও কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি, বিএ, এমএ, পিএইচডি, সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ও আনন্দরাম বড়ুয়া পদকপ্রাপ্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন সিনিয়র ফেলো।
যুগান্তর পত্রিকার প্রাক্তন মুখ্য অবর সম্পাদক, ‘সংবাদ প্রতিদিন’ পত্রিকার অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রাক্তন অতিথি শিক্ষক বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন শতাধিক বই। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আছে অলৌকিক লীলা প্রসঙ্গ, অমৃতস্য পুত্রা:, শৃণ্বন্তু বিশ্বে, শ্রীচৈতন্য কথামৃত, শংকর কথামৃত, মহাকাব্যের কুশীলব ইত্যাদি ধর্মপুস্তক, সংবাদপত্রের ইতিবৃত্ত সহ সাংবাদিকতার গোটা দশেক বই। আছে অন্যান্য বিষয়ে আরও কিছু বই।
কলকাতা লায়নস ক্লাব কর্তৃক পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত এই লেখক সাংবাদিক চণ্ডীগড় প্রাচীন কলাকেন্দ্র, বারাণসী, দুর্গাপুর ইত্যাদি বহু জায়গায় নানা সংস্থা কর্তৃক সংবর্ধিত। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের ‘সেবা সম্মান’ প্রাপক লেখক এখনও বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করছেন।






Reviews
There are no reviews yet.